
এহসানুল হক, বসিরহাট:-বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ছাত্রীদের জন্য এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় আল মোস্তফা মিশন-এ, যা বসিরহাটের মাটিয়া থানার অন্তর্গত ঘোড়ারস কোড়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোটিভেশন স্কলার শিক্ষক আবেদিন হক আদি, মিশনের সম্পাদক শিক্ষক আরসাদুর রহমান এবং সদস্য জুলফিকার আলি সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। শুরু থেকেই অনুষ্ঠানে ছিল আনন্দ, উদ্দীপনা এবং শিক্ষামূলক ভাবনার এক সুন্দর সমন্বয়।
অনুষ্ঠানের সূচনায় বাংলা নববর্ষের তাৎপর্য তুলে ধরা হয় এবং ছাত্রীদের জীবনে শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। উপস্থিত বক্তারা ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল ও সফল ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা দেন। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল ছাত্রীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগানো এবং তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথকে আরও সুদৃঢ় করা।
মোটিভেশন স্কলার শিক্ষক আবেদিন হক আদি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষাই মানুষের জীবনের মূল ভিত্তি। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও সততা থাকলে যে কোনো লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। আজ যারা এই মিশন থেকে সফল হয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, তারা বর্তমান ছাত্রীদের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।” তিনি আরও বলেন, “বাংলা নববর্ষ নতুনভাবে শুরু করার এক বার্তা নিয়ে আসে—এই নতুন বছরে প্রত্যেক ছাত্রীকে নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে।”
অন্যদিকে, মিশনের সম্পাদক শিক্ষক আরসাদুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আল মোস্তফা মিশন শুধু শিক্ষাদানের একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি আদর্শ গড়ার কেন্দ্র। আমরা চাই আমাদের ছাত্রীরা শুধু পড়াশোনায় নয়, নৈতিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধেও সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক।” তিনি সংবর্ধিত প্রাক্তনীদের সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করে জানান, “তাদের এই অর্জন বর্তমান ছাত্রীদের সামনে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।”
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সংবর্ধনা পর্ব। মিশন থেকে ভালো ফলাফল করে বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত প্রায় ১৫ জন প্রাক্তন ছাত্রীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাদের সাফল্যের কাহিনি উপস্থিত ছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করে।
পাশাপাশি এই অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ‘উৎকর্ষ বাংলা’ প্রোগ্রামও অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে ছাত্রীদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়, যা তাদের বাস্তব জীবনে এগিয়ে যেতে সহায়ক হবে।
সব মিলিয়ে, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি শুধু একটি উৎসব নয়, বরং ছাত্রীদের জন্য অনুপ্রেরণা, দিকনির্দেশনা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।